সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

অন্তরীপ

ঘুম থেকে উঠেই দেখি প্রায় ২০ টার মত মিসড কল। রাজু ফোন দিয়েছিল,সামি নাকি কাল ট্যুর প্লান করেছে  তাই কেনাকাটার এক মস্ত আয়োজন।এদিকে মাসের শেষ টাকা পয়সা শেষ কিন্তু ট্যুর। 

মিস করা যাবে না । কল ব্যাক ব্যাক করলাম।

“কিরে শালা আবার তুই ফোন সাইলেন্ট করে রাখছিস আজ আয় খালি খবর আছে । আমরা নিউ মার্কেট আছি।জলদি আয়”

কিছু বলার সুজোগ না দিয়েই ফোন কেটে দিল রাজু। আমিও পকেটের ভাজে রাখা পুরানো ১০০০ টাকার নোট নিয়ে বের হলাম। মিরপুর থেকে ১ ঘন্টার মধ্যেই পৌছে গেলাম।

“কিরে  ট্যুর এর জন্য কি কিনবি ?”

“এইতো ২ টা শার্ট আর প্যান্ট ত আছেই”

“মাস শেষ যা  কেনা যায় তাই  আল্লহর কাছে শুকরিয়া কর ব্যাটা।”

কেনাকাটা শেষ করে চায়ের দোকানে এশে বসলাম । ব্রেকিং নিউজ গাবতলিতে ট্রাক চাপায় কণিকা আহমেদ নামে এক সাংবাদিকের মৃত্যু ।

আমি তো চমকে গেলাম।নামটা চেনা চেনা লাগলো পুরনো দিনের কথা মনে পরে গেল।

যাইহোক একই নামের অনেক আছে সেটা নিয়ে চিন্তার কিছুই নেই । 

পাশে বসা রাজু আমার কাধে ধাক্কা দিয়ে,“ কিরে ব্যাটা আজকে এত ফিট খেয়ে পইরা আছোস ক্যা? নাকি আমাদের সাথে যাবি না?”

“আরে বাল প্যারা নাই টাকা আছে বাল। আর বেশি সমস্যা হলে বিকাশে আছে কিছু ব্যাক আপ।”

“তাহলে কাল দেখা হচ্ছে।” 

এই বলে বেরিয়ে গেলাম।

সারাদিন ঘুরে এসে মাথাটা যেন ভন ভন করছে। রাতে খুব ভালো একটা ঘুম হলো কিন্তু এ ঘুমের ফলাফল খুব ভালো ছিলো না। অনেক দিন পর তাকে সপ্নে দেখেছি সেই ক্লাস ১০ এ পড়া সুন্দরী এক মেয়ে ।যাইহোক অতীত কখনো কারো মনে সুখের বন্যা দিতে পারেনা দেয় শুধু কষ্ট , তাই সে কষ্টকে মনে করে বর্তমানের ছোট

ছোট আনন্দকে হত্যা করার কোনো মানে হয় না।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অনন্ত

* শুরু  কি করব কিছু বুজতে পারছি না। অনেক দিন ধরেই চিন্তা ভাবনা করছি কিছু করব করব কিন্তু কিছু করা হচ্ছে না। এইদিকে এক মাস ধরে বসে আছি নতুন কিছু করব করব ভেবে। এইসব ভাবতে ভাবতে শামিমের ফোন এলো। কিরে যাবি নাকি ? কোথায় যাওয়ার প্লান? চলে আয় টংয়ের দোকানে । তাও ভাই ভালো । টাকা পয়সার এখন যা টানা টানি অবস্থা । বাসায় ও টাকা চাইতে লজ্জা করে । খুবই এক ভয়ানক অবস্থা।" তুই না কি প্রজেক্ট হতে নিবি বলছিলি। ঐটার কি হল। আরে বললেই কি সব হয় নাকি ? এইসব করতে ফান্ডিং এর প্রয়োজন হয় । আচ্ছা আচ্ছা তুই টং এর দোকানে আয় তারপর কথা হবে। আচ্ছা ঠিক আছে আসছি তুই ও আয়। সন্ধ্যার সময় বাহিরে ভালোই ঠান্ডা পরেছে । হুডিটা পরে বেরিয়ে গেলাম । রাস্তায় অনেক বাতাস বইছে । টং এর দোকানে শামীমের কোন কোন খোঁজ পাওয়া গেল না কিন্তু এতক্ষণ এ ওর চলে আসার কথা ছিল। এই দিকে শালা ফোনটা ও রিসিভ করছে না । ও কি আমার সাথে মজা করছে নাকি?  আমি পকেটে চা-বিড়ি খাওয়ার টাকাই নিয়ে এসেছি। ২ টা সিগারেট কিনে বাড়ি ফিরে যাওয়াই উত্তম কালকে ওর সাথে হিসেব বরাবর করব। টং এর দোকানের একটু সামনে যেতেই একটা বাশ-বাগান পরে। এর পাশে দিয়ে যাওয়ার সময় মনে হলো পা কা...

ভয় পেয়েছেন ভাই?

       কোম্পানির কাজের জন্য প্রায় প্রতি সপ্তাহের শেষে রহিম সাহেবকে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে যেতে হয় । এই সপ্তাহেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি । ট্রেন থেকে স্টেশনে নেমে কিছুটা পথ পার হতেই বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো । ব্যাপারটা যেন না বলে আসা মেহমানের মতো লাগলো রহিম সাহেবের । ছাতাটাও বোধ হয় ট্রেনে ফেলে এসেছেন । এ নিয়ে ছাতা হারানোর সংখ্যা  মনে হয় হাফ সেঞ্চুরি পার হবে । কিছুটা সামনে যেতেই একটা বন্ধ চায়ের দোকান চোখে পড়ল । মাথাটাকে কিছুটা হলেও এই বৃষ্টির হাত থেকে বাচাতে পারবেন এই ভেবেই মনটা আনন্দে নেচে উঠলো । টিনের তলায় কিছুক্ষন দাড়াতেই চল্লিশ  বছর বয়সী এক লোক এশে পাশে দাড়ালো ।  “কি হে মশাই এই এলাকায় নতুন নাকি” “জি ভাই কাজের সুবাদে এখানে আসা আরকি” কেন যে এই কথা বলতে গেলাম এই ভেবে জিভ কাটলাম । “ তো কোথায় ঊঠবেন ?’’ “ হাটহাজারী তে একটা হোটেল বুক করেছিলাম এই বৃষ্টির জন্য মনে হচ্ছে যেতে দেরি হয়ে যাবে । আপনি বুঝি এই এলাকার বাসিন্দা?’’ একটু আগ্রহ নিয়েই কথাটা জিজ্ঞেস করলাম । “ আজ্ঞে সেই রকম না , আবার বলতে গেলে বাসিন্দাও । আমি এখানে ৬ মাস হয়েছি এসেছি।” “ ওহ আচ্ছা । তা এলাকাটা খুব শুনশান...