এক বৃষ্টি নামলেই রাতুলের ঘুম ভালো হয়। আজও তাই হয়েছে। জানালার পাশে শুয়ে সারারাত টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ শুনতে শুনতে কখন যে চোখ লেগে গিয়েছিল, টেরই পায়নি। ঘুম ভাঙল দুপুরের দিকে, রোদের তাপে গায়ে ঘাম জমে যাওয়ার পর। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বিশেষ কোনো তাড়া অনুভব করল না। রাতুলের জীবনে তাড়া বলতে কিছু নেই। ও নিজেই বলে বেড়ায়, "আমি একটা ড্রিফটার, ভাই। যেদিকে বাতাস বয়, সেদিকেই যাই।" কথাটা শুনতে যতটা রোমান্টিক লাগে, বাস্তবে ততটাই ফাঁকা। রাতুলের বয়স ছাব্বিশ। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া শেষ করেও চাকরি করেনি একদিনও। মাঝে ছয় মাস একটা স্টার্টআপে কাজ করেছিল, তারপর একদিন হুট করে বলল, "আর ভালো লাগছে না এই জীবন" বাদ দিল সব । এরপর থেকে টুকটাক টিউশনি, মাঝে মাঝে ফ্রিল্যান্স কাজ, আর বাকি সময়টা রাস্তায় রাস্তায় হাঁটা। বাবা-মা প্রথমে অনেক বকাবকি করেছেন, এখন আর কিছু বলেন না। বলাটাও ছেড়ে দিয়েছেন, যেমন মানুষ কোনো রোগের সাথে মানিয়ে নেয়। রাতুল অবশ্য নিজেকে অসুস্থ মনে করে না। ওর মনে হয়, বাকি সবাই একটা দৌড়ে নেমে গেছে, আর ও শুধু পাশ থেকে দাঁড়িয়ে দেখছে। দৌড়টা কীসের জন্য, কোথায় গিয়ে শেষ হব...