সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সফলতা অর্জনে আত্মবিশ্বাসের ভূমিকা

 সফলতার উপরে প্রায় পৃথিবীর সব মানুষের আগ্রহ।কিন্তু প্রায় সব মানুষের সফলতা অর্জনের চেষ্টা শুধু স্বপ্নেই বা মুখেই রয়ে যায়। আজ যদি আমরা কিছু সফল ব্যক্তির উদাহরণ দিতে চাই তাহলে তা মোটেও ১০০ জনের মধ্যে ২০ কিংবা ২৫ জনের বেশি হবে না।

। দেখা যায় সিংহভাগ মানুষ তাদের সফল্যের চূড়ান্ত পর্যায় এসে থেমে যাচ্ছে।


সাফল্যের দ্বার প্রান্তে এসে থেমে যাওয়া বা সফলতা অর্জনের পরিকল্পনা শুরুতেই শেষ হয়ে যাওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে।


বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যে অসংখ্য কারণ চিহ্নিত করেছেন যার মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অন্যতম এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এর প্রভাব বাংলাদেশে ভালো ভাবেই খেয়াল করা যায়।


আত্মবিশ্বাস হচ্ছে আমাদের নিজের দক্ষতা, যোগ্যতা, জ্ঞান, বিচার বা বুদ্ধির ওপর পূর্ণ আস্থা বা বিশ্বাস।

আমরা সবাই জানি যে আত্মবিশ্বাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ।


কিন্তু আমরা অধিকাংশই জানি না এর গুরুত্বের পরিমাপ বা ডিগ্রি। আমরা হয়তো কল্পনাও করতে পারবো না আমাদের জীবনে আত্মবিশ্বাসের গুরুত্ব কতখানি। আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এমনভাবেই গঠিত যে শিশু বয়স থেকেই আমরা এক ধরনের ভয়, বাধা বা নিষেধের বলয়ে আবদ্ধ থেকে বড় হই এবং যার ফলশ্রুতিতে আত্মবিশ্বাস নামক শব্দটি আমাদের জন্য অপরিচিত একটি বিষয়ে পরিণত হয়।

আত্মবিশ্বাস আমাদের সমগ্র জীবনকে ভালভাবে পরিবর্তন করতে পারে। কারণ এটা আমাদের নিজের ওপর বিশ্বাসের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং শুধু ঝুঁকি নিতে শেখায় না বরং বাস্তবায়নের পথ বের করে দেয়। আবার আত্মবিশ্বাসের অভাবে আমাদের সামাজিক সম্পর্ক, কর্মজীবন, কৃতিত্ব এমনকি আমাদের মেজাজের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।


নিম্নলিখিত তালিকা আমাদের আত্মবিশ্বাসের গুরুত্বের একটি ভাল ধারণা দেবেঃ

• আপনি যত বেশী আত্মবিশ্বাসী তত কম হতাশা অনুভব করবেন প্রত্যাখানে বা ‘না’ শব্দে। হোক সেটা সামাজিক সর্ম্পকের ক্ষেত্রে, ব্যক্তিগত জীবনে, কর্মক্ষেত্রে আমরা ‘না’  শুনলেই ঘাবড়ে যাই, হতাশ হয়ে যাই, এমনকি নিজের দক্ষতা, যোগ্যতাকেও অবিশ্বাস করি শুধু আত্মবিশ্বাসের অভাবে।

• আত্মবিশ্বাস মানুষকে ঝুঁকি নিতে শেখায়। যার ফলে আত্মবিশ্বাসীরা একের পর এক সুযোগের সম্মুখীন হন।

• আত্মবিশ্বাসী মানুষ কখনও সমালোচনার দ্বারা প্রভাবিত হন না, বরং খারাপ সমালোচনাকে উপেক্ষা বা হাসির ছলে উড়িয়ে দেন।

• আত্মবিশ্বাস মানুষকে অযথা উদ্বিগ্ন হতে বিরত রাখে এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার কৌশল বের করতে সহায়তা করে।

• ঈর্ষা মানুষকে ধ্বংস করে- এটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এটা কি জানি একমাত্র আত্মবিশ্বাস মানুষকে ঈর্ষা থেকে বিরত রাখে।

• আত্মবিশ্বাসী মানুষ কখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন না। হোক সেটা সামাজিক, ব্যক্তিগত বা কর্মক্ষেত্র বিষয়ক।


যে কোন সাফল্যের পূর্ব শর্ত হচ্ছে, পরিবর্তনকে গ্রহণ করা বা উন্নতির ধারায় সবসময় নিজেকে বেগবান রাখা। আমরা এটাও জানি,  যে কোনো পরিবর্তন বেদনাদায়ক বা চ্যালেঞ্জিং। আত্মবিশ্বাসী মানুষ কখনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পিছপা হন না। তাই আত্মবিশ্বাসী মানুষকে সফলতা পেতে কেউ বাধা দিতে পারে না।



রিজেক্টেড আর্টিকেল

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অনন্ত

* শুরু  কি করব কিছু বুজতে পারছি না। অনেক দিন ধরেই চিন্তা ভাবনা করছি কিছু করব করব কিন্তু কিছু করা হচ্ছে না। এইদিকে এক মাস ধরে বসে আছি নতুন কিছু করব করব ভেবে। এইসব ভাবতে ভাবতে শামিমের ফোন এলো। কিরে যাবি নাকি ? কোথায় যাওয়ার প্লান? চলে আয় টংয়ের দোকানে । তাও ভাই ভালো । টাকা পয়সার এখন যা টানা টানি অবস্থা । বাসায় ও টাকা চাইতে লজ্জা করে । খুবই এক ভয়ানক অবস্থা।" তুই না কি প্রজেক্ট হতে নিবি বলছিলি। ঐটার কি হল। আরে বললেই কি সব হয় নাকি ? এইসব করতে ফান্ডিং এর প্রয়োজন হয় । আচ্ছা আচ্ছা তুই টং এর দোকানে আয় তারপর কথা হবে। আচ্ছা ঠিক আছে আসছি তুই ও আয়। সন্ধ্যার সময় বাহিরে ভালোই ঠান্ডা পরেছে । হুডিটা পরে বেরিয়ে গেলাম । রাস্তায় অনেক বাতাস বইছে । টং এর দোকানে শামীমের কোন কোন খোঁজ পাওয়া গেল না কিন্তু এতক্ষণ এ ওর চলে আসার কথা ছিল। এই দিকে শালা ফোনটা ও রিসিভ করছে না । ও কি আমার সাথে মজা করছে নাকি?  আমি পকেটে চা-বিড়ি খাওয়ার টাকাই নিয়ে এসেছি। ২ টা সিগারেট কিনে বাড়ি ফিরে যাওয়াই উত্তম কালকে ওর সাথে হিসেব বরাবর করব। টং এর দোকানের একটু সামনে যেতেই একটা বাশ-বাগান পরে। এর পাশে দিয়ে যাওয়ার সময় মনে হলো পা কা...

ভয় পেয়েছেন ভাই?

       কোম্পানির কাজের জন্য প্রায় প্রতি সপ্তাহের শেষে রহিম সাহেবকে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে যেতে হয় । এই সপ্তাহেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি । ট্রেন থেকে স্টেশনে নেমে কিছুটা পথ পার হতেই বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো । ব্যাপারটা যেন না বলে আসা মেহমানের মতো লাগলো রহিম সাহেবের । ছাতাটাও বোধ হয় ট্রেনে ফেলে এসেছেন । এ নিয়ে ছাতা হারানোর সংখ্যা  মনে হয় হাফ সেঞ্চুরি পার হবে । কিছুটা সামনে যেতেই একটা বন্ধ চায়ের দোকান চোখে পড়ল । মাথাটাকে কিছুটা হলেও এই বৃষ্টির হাত থেকে বাচাতে পারবেন এই ভেবেই মনটা আনন্দে নেচে উঠলো । টিনের তলায় কিছুক্ষন দাড়াতেই চল্লিশ  বছর বয়সী এক লোক এশে পাশে দাড়ালো ।  “কি হে মশাই এই এলাকায় নতুন নাকি” “জি ভাই কাজের সুবাদে এখানে আসা আরকি” কেন যে এই কথা বলতে গেলাম এই ভেবে জিভ কাটলাম । “ তো কোথায় ঊঠবেন ?’’ “ হাটহাজারী তে একটা হোটেল বুক করেছিলাম এই বৃষ্টির জন্য মনে হচ্ছে যেতে দেরি হয়ে যাবে । আপনি বুঝি এই এলাকার বাসিন্দা?’’ একটু আগ্রহ নিয়েই কথাটা জিজ্ঞেস করলাম । “ আজ্ঞে সেই রকম না , আবার বলতে গেলে বাসিন্দাও । আমি এখানে ৬ মাস হয়েছি এসেছি।” “ ওহ আচ্ছা । তা এলাকাটা খুব শুনশান...