সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

অগস্ত্যযাত্রা

 *

ঘুম থেকে উঠে রুদিপ দেখলো তার ফোনে ৫০ এর বেশি মিসড কল।

“ আশ্চর্য এতগুলো মিসডকল তাও আবার অচেনা নম্বর থেকে ”

কল ব্যাক করতেই এক ছোট বাচ্চার কণ্ঠ।

“হ্যালো’’

“আমি মাহিন , আপনি পুলিশ আংকেল না’’

“জী”

কালকে রাতে এক বাচ্চাকে কল্যাণপুরে পাওয়া যায় । ছেলেটি সম্ভবত রাস্তা হারিয়ে ফেলেছিল । এক দোকানের সামনে তাকে কান্না কাটি করতে দেখে আমি পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাই । পরিবারকেও খবর দেয়া হয় । গতকাল প্রায় ২ ঘণ্টা সময় কাটাই তার সাথে । এর মধ্যেই সে আমাকে বন্ধুর মতো মনে করে । ওর বাবার সাথে যাওয়ার সময় আমার কাছ থেকে যোগাযোগের নম্বর চেয়ে নেয় । আজকালকার বাচ্চাগুলো ভালোই বুদ্ধিমান ।

“ আংকেল আপনি একটু জলদি আসুন আমার কিছু বলার আছে’’

“আমি তো কাজে যাবো একটু অন্য একদিন আসি?”

“জী একদিন আসেন ’’

“আচ্ছা তোমার আব্বুকে বা আম্মুকে ফোনটা দাও তো সোনা ’’

আমি এটা বলতেই ফোনটা রেখে দিলো বাচ্চটা । হয়তো যখন আমি বলেছি অন্য একদিন আসব তখনই ও মন খারাপ করেছিল । কিভাবে যে বাচ্চাদের সাথে কথা বলতে হয় সেটাও ঠিক মতো জানা নেই আমার ।

অফিসে গিয়ে পোছাতেই আইজি স্যার এর কল ।

“ তোমাদের দিয়ে কিছুই হবে একটা কেস দিয়েছি তাও সল্ভ করতে পারছো না ? উপর মহলে কি জবাব দিবো আমি । দেখো তোমরা এই কেস সলভ করো যা আর হ্যাঁ এই ব্যাপারে মিডিয়া যেন না জানতে পারে । ’’

“জি স্যার । আমরা কি মিডিয়াকে জানিয়ে জানিয়ে কাজ করি ? ওরা এভাবেই খবর পেয়ে যায় । আর হ্যাঁ স্যার আমার কাছে কেন যেন মনে হয়েছে এইটা সিরিয়াল কিলিং এর কেস”

“হাহাহা , বাংলাদেশে এইসব। যাইহোক তুমি চালিয়ে যাও আমি কালকে দেখা করতে আসছি । আর হ্যাঁ মিডিয়া থেকে কিন্তু সাব্ধান।”

“আচ্ছা স্যার”

এই আইজি স্যার এক বজ্জাত লোক । নিজের বন্ধুর খুন হয়েছে তাই স্পেসালি কেস হ্যান্ডেল করতে দিয়েছে । আর মানুষ মনে হয় মরে না । শালা খালি বলে ৩ দিনের মধ্যে খুনি চাই আরে খুনি কি আমি পয়দা করে আনবো নাকি ।

কনস্টেবল মন্টু “ স্যার কাউরে ফাঁসাইয়া কেসটা দফা রফা করেন আর একটা মেডেল পাইয়া যাবেন”

“আরে না । ভাই জোড়া খুনের ব্যাপার স্যাপার কিভাবে একজন নির্দোষকে ফাঁসাই বলেতো ? এইটা তো আর চুরির কেস না”

“হা হা স্যার তার মানে আপনার মেডেল লাগবো না ”

“ কেন ফাঁসিয়ে দেয়া ছাড়া কি মেডেল পাওয়া যায়না নাকি? ঐ খুনিকে আমি ধরবোই”

কয়েকদিন আগে এক বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী আর তার গাড়ির ড্রাইভার খুন হয় । তাদেরকে বাসার সামনে রকতাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় । লোকটির নাম আজিম আহমেদ । তিনি নাকি আইজিপির খুব কাছের বন্ধু । আর একটা পরিচিতিও আছে তার ব্যাবসায়ী যেন তেন ব্যাবসায়ী হয় মাদক এর উচ্চ লেভেল এর সাপ্লায়ার। আমার আছে তার সম্পর্কে সব তথ্য আগে থেকেই ছিল কিন্তু কি আর করার আইজিপির বন্ধু বলে কথা ।  আমার বুজতে আর দ্বিধা থাকলো না যে এই কেস আমাকে ভালোই ভোগাবে ।

সকাল সকাল স্টেশনে আইজিপি কেস এর প্রগ্রেস সম্পর্কে পার্সোনালি জানতে এসেছেন ।

“ কি রুদিপ তোমার নাকি ডিপার্টমেন্ট এ অনেক নাম ডাক । আর এখন পর্যন্ত খুনিকে ধরতে পারলে না । আমি তো তোমার থেকে আর ভালো কিছু আসা করেছিলাম”

“ ব্যপারটা আপনি যত সহজ ভাবছেন স্যার ততোটা নয় । আপনাকে আমি পোস্টমরটেম রিপোর্ট দিচ্ছি স্যার এইটা দেখলেই বুজবেন খুনটা কতোটা আজগুবি”

স্যার রিপোর্ট টা পড়ে আমার দিকে তাকালো , “কি বলো কুকুরের রক্ত ?”

“জি স্যার , কুকুরের রক্ত । খুনি অনাদের হত্যা করার পর ওদের রক্তে কুকুরের রক্ত মিশিয়েছে”

“এটা কেমন কাজ ? আজকালকার খুনি গুলো যেন কেমন হয়ে গেছে’’

“ স্যার এটা কোনো সাইকো এর কাজ । হতে পারে । আমি শিওর”

“ আমিও তো আমার জীবন দশায় কম কেস হ্যন্ডেল করি নি, এইটা কেন যেন অন্য রকম মনে হচ্ছে । আচ্ছা তুমি কি পারবে না আমি কেস সিয়াইডিকে দিয়ে দিবো ?’’

“স্যার আমি পারবো কিন্তু আমাকে কিছু সাপোর্ট দিতে হবে’’

“আচ্ছা”

এই কেসটা কেন জেন আমার মনে ধরে গেছে । কয়জন পারে একটা সাইকোর কেস সল্ভ করতে । এখন এইটার মতো আরো কিছু কেসের খোজ করতে হবে । দেশের সব থানায় এই খুনির ব্যাপারে তথ্য দেয়া হলো । এভাবেই কোন ক্লু ছাড়া আরও ২ টা দিন চলে গেল । আইজির কাছে  আমার মান সম্মান এর ১২টা বাজতেও বাকি থাকবে না মনে হয় । পরেরদিন একটা কল আসলো চট্টগ্রাম এর উখিয়া থানা থেকে । কয়েকদিন আগে নাকি এক ডজন খুন হয়েছে । আর চিন্তার ব্যাপার দুইজনের লাশ একসাথে পাওয়া যায়  সেটায় নাকি  কুকুরের রক্ত মেশানো ছিল । এই কেস এখনো সমাধান হয় নি ।

আমি শিওর হলাম যে আমি ঠিক রাস্তায় এগুচ্ছি । এখন অপরাধীকে ধরার পালা । কিন্তু এতো যেন তেন অপরাধী নয় , মনে হচ্ছে এইটা শিক্ষিত অপরাধী ।

“আচ্ছা স্যার আপনি কেমনে বুঝলেন অপরাধী শিক্ষিত?”

“তেমন না হয় শিক্ষিত বা অনেক নামী লোক । কারণ যারা খুন হয়েছে তারাও তো নামী লোক নামী লোকেদের সাথেই চলাচল করবে আবার নাও হতে পারে ।’’

“তাহলে কি মেডেল আপনার হবে স্যার?”

“আপনি দেখি আমার হাতে মেডেল দেখতে চান?’’

“হ্যাঁ স্যার পাইলে আপনার সাথে একটা সেই কইরা ছবি তুলতাম”

আমি আছি আমার মানসম্মান নিয়ে ও দেখি মেডেল মেডেল করে , মনে মনেই বললাম । কেসটা নিয়ে একটু বেশি চিন্তা ভাবনা করে ফেলছি ।

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে সেই উখিয়া থানা থেকে আবার একটা কল ।

“স্যার আমাদের এইদিকে আরো একটা লাশ পাওয়া গেছে সন্ধ্যায় , একজন মহিলার লাশ । এই এলাকায় ভালোই প্পুলারিটি আছে । তার লাশের পাশের রক্তের সাথে কুকুরের রক্ত পাওয়া গিয়েছে । এখন তো উপরের থেকে চাপ আসছে আমার উপর , আপনর ইনভেস্টিগেশন কতদুর ? 

“আপনার আর আমার সাসপেক্ট একই লোক এটা কি এখনো বুঝেন নাই”

“হুম তা তো বুঝতে পেরেছি । আপনি আর আমি মিলে কিছু করি আপনি অনুমতি নিয়ে চট্টগ্রাম চলে আসুন”

তারপরের দিন আইজির অনুমতি নিয়ে চট্টগ্রাম চলে গেলাম । যেহেতু কেসটা ইম্পরট্যান্ট আইজি অনুমতি না দিয়ে পারলেন না ।সকালের গাড়িতে উঠে রাত ৬ টা বাজে চট্টগ্রাম পুলিশ কোয়াটারে পোঁছে গেলাম । পরের দিন আবার ক্রাইম স্পট এ । গিয়ে উপস্থিত । সাথে উখিয়া থানার ওসি আকবর । 

“দেখেন কাজের ফাকে চট্টগ্রামটাও ঘুরা হয়ে গেলো”

“হা হা আমি অবশ্য আগে এসেছিলাম একবার । এইবার আমাকে ক্রাইম স্পট টা দেখান ।”

“জি এটার জন্যই তো ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসা।”

ক্রাইম স্পট এ খয়েরি রঙে শুকনো দাগ দেখতে পেলাম পাশে একটা টিসু পরে আছে। 

“কি ব্যাপার আকবর সাহেব , আপনি এই টিসুটা ফরেনসিকে পাঠান নাই ?’’

“আরে এই সব কি ওই আসামির নাকি?”

“ এইভাবে এত বড় একটা কেসের ইনভেস্টিগেশন করছেন। কতগুলো খুন হয়ে গেলো ।”

টিসুটা হাতে নিতেই একটা গন্ধ পেলাম । হেরোইন মনে হলো । 

“ আচ্ছা এইখানে কি এখনো পপি চাষ হয় নাকি? কোনো আইডিয়া আছে?”

“হয় মনে হয় । আগে তো পাহাড়ের চিপায় চাপায় চলত।”

“এইগুলা নিয়া মামলা মোকাদ্দমা হয় নাই?”

“অবশ্যই হয়েছে আমি ওইসময় নতুন পোস্টিং হয়ে আসি”

“আচ্ছা আমি কাগজ গুলো দেখবো ।”

“চলেন । আমি ব্যবস্থা করে দিচ্ছি”

বসে পরলাম । মস্ত বড় ফাইলের ভীড় থেকে বের হল ৮-১০ টা ফাইল । সবগুলোই ২০১০ এর আগের ইরোইন রিলেটেড কেস । গভীর মনোযোগ দিয়ে ফাইলগুলো পড়ছিলাম । একজায়গায় আসতেই চোখ আটকে গেল । এই সেই দুই ডন যাদের নামে অনেক মামলা আছে । কিন্তু পরে মামলাকারী এইসব উইথড্র করেছে । এদের ২ জনের লাশ যেখানে পাওয়া গিয়েছে সেখান থেকেই ঘুরে এলাম । হিসেব কিছু মিলাতে পেরেছি মনে হয় । কিন্তু এদের সাথে  বাকিদের কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায় নাকি সেটাই মিলিয়ে দেখতে হবে । ফাইলগুলোর কপি সাথে নিয়ে ফিরে গেলাম ঢাকায় । আইজিপি স্যার এর সাথে এটা নিয়ে বসতে হবে । আমার পাওয়া তথ্যগুলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তার কাছে রিপোর্ট করতে হবে ।

এইসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে সেই ছোট্ট বাচ্চার সাথে তার বাবা আমার চেম্বারে ।

“স্যার না বলেই চলে এলাম , আমার এই ছেলে আপনার সাথে দেখা করার জন্য প্রতিদিন ই বলত ।২ দিন আগে এসেছিলাম আপনি নাকি চট্টগ্রাম ছিলেন তাই আজ এলাম ।”

“ হ্যাঁ এসে ভালই করেছেন”

দেয়ালে আইজী স্যার এর বন্ধুর ছবি দেখে লোকটি, “আরে এনাকে তো চিনি আগে হেরোইন এর স্মাগলার ছিল । ”

“কি বলেন আপনি ওকে রেখে কালকে আসবেন । এই কেস নিয়ে আমি কাজ করছি । ওনার মৃত্যু হয়েছে ।” 

আইজি স্যার কে রিপোর্ট করতে যাচ্ছিলাম ।স্যার কর্কশ কণ্ঠে বলে দিলো , " কেসটা তুমি ড্রপ করে দাও"

" স্যার এতদূর এসে এই কথা বলছেন?"

" আমার মনে হয় তুমি একটু বেশিই জেনে ফেলেছো"

" আপনার কাছে কিছু জানার ছিল"

"স্যার আপনার বন্ধু নিশ্চয়ই ভালো মানুষ ছিলো না সেটা কি আপনি জানতেন?" 

"হ্যা,ওকে আমি অনেক বার না করেছিলাম এসব না করতে ।"

" আর চট্টগ্রাম এ যে কয়জনের লাশ পাওয়া গিয়েছিলো তাদের সবাই ই মাদক এর কারবারের সাথে জড়িত ছিল”

“তাহলে তোমার কি মনে হচ্ছে এই খুনটা কে করছে?’’

“আমার জানা নেই কিন্তু এমন কেউ করছে যার মনে মাদক নিয়ে অনেক ক্ষোভ আছে ।”

“আচ্ছা তুমি যাও আমি দেখছি”

ব্যাপারটা মিলিয়ে নিলাম ঠিক আছে কিন্তু খুনিকে ধরতে পারবো নাকি এক সন্দেহ আছে । এই কেসটা নিয়ে ১০ দিন এত ঘটাঘাটি করেছি যে আর এগুতে ইচ্ছে করছে না। আইজী স্যার কেস ছেড়ে দিতে বলেছিল ঠিক ই তো শালা তুই আকাম কুকাম করবি আর তোকে মেরে ফেললেই আমাদের দৌড়। নামীদামী মানুষ ছাড়া এই দেশে বিচার পাওইয়া কষ্ট । ৫ বছরের চাকুরী জীবনে এইটুক বুজতে পারছি । 

রাত ১২ টার কাছাকাছি বাজে দরজার  বেল বেজে উঠলো ,

“আসি,এই সময় আবার কে এলো?”

দরজা খুলতেই দেখি অই ছোট্ট ছেলেটির বাবা । 

“এত রাতে আপনি আমার বাসায়? কোন সমস্যা?”

“স্যার ওই খুনের ব্যাপারে আমি কিছু বলতে চাই’’

“তাই বলে এত রাতে ? আচ্ছা বলুন ।”

“আসলে ওই সবগুলো খুন আমিই করেছি ।’’

“কিহ! এইসব কি বলছেন । মাথা ঠিক আছে আপনার ৫ টা খুন? কেন এসব করছেন?”

“৫ টা নয় আরো ১ টা করবো। যার যাকে মারবো হয়ত তার মুখোশ কোনদিন আপনিও খুলতে পারবেন না । তাই আপনাকে সব সত্য জানাতে এলাম ।”

“আচ্ছা বসুন আমি চা নিয়ে আসছি । তারপর হয় বলবেন”

৫ মিনিট পর চা নিয়ে এলাম । ভাবতেও অবাক লাগছে এতগুলো সাইকো স্টাইলে খুনের আসামীর সাথে এত গভীর রাতে চা পান করছি । একেই বলে কপাল , কপালে লেখা থাকলে কত কিছুই না হতে পারে ।

“ বলুন কাকে খুন করবেন আর কেন করবেন আর কি ই বা মুখোশ উন্মোচন করবেন?”

“ঘটনা শুরু হয় ১২ বছর আগে । আমিও আপনার মতো একজন পুলিশ অফিসার ছিলাম । তখনকার দিনে হেরোইন ম্যাড দ্রব্যের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল আর এই হেরোইন আসতো পপি গাছ এর কষ থেকে । বাংলাদেশে কখনই পপি চাষ হত না । আইজিপি স্যার এর বন্ধু সারোয়ার সাহেব তখনকার নামকরা স্মাগলার ছিল । সারোয়ার বরাবর এর মতই বোকা ছিল । তারা থাইল্যন্ড থেকে হেরোইন বাংলাদেশে সাপ্লাই করতো । এখনকার আইজি স্যার তখন ঠিকি পুলিশ অফিসার ছিল । এইভাবে সাপ্লাই করতে  বেগ পেতে হতো । সরাকার যখন এই ব্যাপারটা নিয়ে নারাচারা দিয়ে উঠে তখন আইজী স্যার বুজতে পেরে গিয়েছিল যে এইভাবে আর আমদানি করে চলবে না । তখন তিনি এক প্ল্যান তৈরি করেন । মায়ানমার থেকে পপি গাছ এর বীজ কিনে আনেন আর মায়ানমার বাংলাদেশ বর্ডার এর পাশে এই পপি চাষ শুরু করেন। বলতে গেলে বাংলাদেশে হেরোইন এর সাপ্লাই আর উৎপাদন তার হাত দিয়েই শুরু হয় ।”

“ এগুলো কতটুকু সত্য ?” 

“ আগে আমার সবটুকু কথা শুনুন প্লিজ । আপনি আমাদের প্রশাসনকে যতটুকু খারাপ ভাবেন আসলে এইটা তার থেকেও খারাপ । এই পপি চাষ শেখার জন্য মায়ানমার থেকে অভিজ্ঞ লোক বাংলাদেশে আনেন । আর বিডিয়ার ও মায়ানমার বর্ডার পুলিশের  টহলের আড়ালে এইসব চালিয়ে যান । ঘটনা শুরু হয় যখন আমি তার যায়গায় পোস্টিং পাই তাকে অবশ্যই অনন্য জায়গায় যেতে হয়েছিল । কিন্তু তিনি ভয়ে ছিলেন যে তার এই মালামালের দায়ীত্বে যে লোক আছে উনি আবার সবকিছু বিগরে দেয় নাকি । আর এমনিতেও এইসব কাজের সব প্রসেস তিনি আর তার বন্ধু রপ্ত করে ফেলাছিলেন । যাওয়ার আগে তার এইসব কাজের ম্যনেজার এর নাম এনকাউন্টার অর্ডার দিয়ে জান । যেইটা আমাকে সম্পন্ন করতে হয়েছিল । আমরা একটা মিশন পরিচালনা করে তাকে হত্যা করি । আর মায়ানমার হতে যে দুজনকে দেশে এনেছিল তাদের নামে তৎকালীন জঙ্গি সংগঠন আরাকান আর্মি এর টাগ দিয়ে বিডিয়ার দিয়ে ক্রস ফায়ারে দেন । বুজলেন তো উনি কত বর অপরাধী ছিলেন।”

“ আপনি তাহলে খুনের খেলায় নেমে গেলেন কেন ?”

“আমি বললাম না । ওর ম্যানেজারকে আমরা এনকাউন্টার এ মেরে ফেলি? আমি কি বোকা ছিলাম নাকি ? আমি ওই ম্যনেজারকে হাতে ২টি গুলি করি । অকে পরে হাসপাতালে নিয়ে সব কথা বের করি । আর তার নামে হেরোইন এর মামলা ছিল তো আমি এইটার মাথাকে ধরতে চেয়েছিলাম ।  ওর সব কথা আমার কাছে রেকর্ড করা ছিল । এই রেকর্ডের জন্যই আমাকে আমার পরিবারকে হারাতে হয়েছে ।”

“ তার মানে আপনার পরিবারের খুনি আইজি ?”

চিৎকার করে লোকটি বলল , “আইজি না সারোয়ার ও দুইজন এই । বাকি যাদের মেরেছি তারাও আইজির লোক । তাদের সবার নামে আমি একশন নিয়েছিলাম । আমি যখন জানতে পারি  এইসবের পিছনে আইজি ছিল তখন আমি কমিশনারের কাছে এই সব তথ্য নিয়ে হাজির হতেই যাচ্ছিলাম । আমার বাসা থেকে একটা ফোন আসে । বাসায় ছুটে চলে যাই আর দেখি আমার স্ত্রী আর মা কে ওরা মেরে ফেলেছে । আর খুনি হিসেবে আমাকেই আসামী করেছে। নিজের পরিবারের মৃত্যুর বোঝা মাথায় নিয়ে ১২ বছর জেল এ ছিলাম কিছু মাস আগেই মুক্তি পেয়েছি।”

“তাহলে ওই বাচ্চাটা কার ?”

“একা একা কি আর থাকা যায় ওকে এক অনাথ আশ্রম থেকে এনেছি ২ মাস আগেই ।”

“ আচ্ছা এখন আপনার কি পরিকল্পনা আইজিকে মারবেন?”

“হ্যাঁ।”

“আর যদি বলি এসব না করে আওব কিছু আদালতে বলুন ।”

“আপনার কি মনে হয় এই দেশে অশায় দের বিচার হয় ? আর আমি নিজে আত্মহত্যা করে মারা যাবো তবুও সারেন্ডার করবো না । ওরা আমার পরিবারকে মেরেছে । ওরা কি মানুষ  ওরা হলো কুকুর ।”

চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে যাচ্ছিল আমার । রাত ২ টাচ কলিংবেলএ ঘন্টা বাজলো । এখন আবার কে ?

দরজার লুকিং গ্লাস দিয়ে দেখি আইজি স্যার।

দরজা খুলতেই,

“কোথায় ওই শুয়োরের বাচ্চাটা ?”

“স্যার আপনি কাকে খুঁজছেন?”

“মজা করিস না , এতদূর আসতে আমার অনেক কাঠ খড় পোড়াতে হয়েছে । ঐ শালা তো নিজেও ফাঁসিতে ঝুলবে আমাকেও ঝোলাবে । ওকে আর বাচিয়ে রাখা যাবে না ।”

এর মাঝেই লোকটি আইজির সমনা সামনি হল।

“তুই ওইদিন আমার কথা শুনলে ফ্যামিলি নিয়ে থাকতে পারতি । কি না ছিল তো পুলিশের চাকরি । শালা এই দেশ প্রেম তোরে কি দিলো । তোরেই জেলে ভরছিলাম না ? হাহা দেখ আজকে তোরে কি করি । কুত্তার মতো মারমু”

“স্যার অকে না মেরে গ্রেফতার করি ।”

“তুই কি আমার মান সম্মান মারবি । এইসব দেশ প্রেমিক আমার পছন্দ না ।”

লোকটা বিনা অস্ত্র ছড়াই এসেছিল । এক্সট্রা সেফটির জন্য চা বানানোর সময় পিস্তলটা পকেটে গুজে নিয়েছিলাম । তার ওইসব শুনে মনে কেন যেন ভয় ঢুকে গিয়ে ছিল। এখন আর ভয় নেই।

লোকটির হায়াত মনে হয় শেষ। আমিতো কাঠের পুতুল এর মত সব দেখছিলাম ।লোকটি আবারো চিৎকার করে বলতে লাগলো আমি মরলে ছাদ থেকে লাফিয়ে মরবো তবুও তোর মত কুকুরের হাতে মরব না । 

“ মরতে তোকে আমার হাতেই হবে । এইটাই তর নিয়তি।” 

ঠাসসসস করে একটা বিকট আওয়াজে রুমটা কেপে উঠলো । আমার হাত কাঁপছে । এ কি করলাম আমি? মনের অজান্তেই গুলিটা করে ফেললাম আইজি স্যার এর মাথায় ।

লোকটা আনন্দের সাথে বলল ,

“ঈশ আজ আমি যদি এইভাবে  পুলিশ হয়ে দেশের জন্য কিছু করতে পারতাম।”








মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অনন্ত

* শুরু  কি করব কিছু বুজতে পারছি না। অনেক দিন ধরেই চিন্তা ভাবনা করছি কিছু করব করব কিন্তু কিছু করা হচ্ছে না। এইদিকে এক মাস ধরে বসে আছি নতুন কিছু করব করব ভেবে। এইসব ভাবতে ভাবতে শামিমের ফোন এলো। কিরে যাবি নাকি ? কোথায় যাওয়ার প্লান? চলে আয় টংয়ের দোকানে । তাও ভাই ভালো । টাকা পয়সার এখন যা টানা টানি অবস্থা । বাসায় ও টাকা চাইতে লজ্জা করে । খুবই এক ভয়ানক অবস্থা।" তুই না কি প্রজেক্ট হতে নিবি বলছিলি। ঐটার কি হল। আরে বললেই কি সব হয় নাকি ? এইসব করতে ফান্ডিং এর প্রয়োজন হয় । আচ্ছা আচ্ছা তুই টং এর দোকানে আয় তারপর কথা হবে। আচ্ছা ঠিক আছে আসছি তুই ও আয়। সন্ধ্যার সময় বাহিরে ভালোই ঠান্ডা পরেছে । হুডিটা পরে বেরিয়ে গেলাম । রাস্তায় অনেক বাতাস বইছে । টং এর দোকানে শামীমের কোন কোন খোঁজ পাওয়া গেল না কিন্তু এতক্ষণ এ ওর চলে আসার কথা ছিল। এই দিকে শালা ফোনটা ও রিসিভ করছে না । ও কি আমার সাথে মজা করছে নাকি?  আমি পকেটে চা-বিড়ি খাওয়ার টাকাই নিয়ে এসেছি। ২ টা সিগারেট কিনে বাড়ি ফিরে যাওয়াই উত্তম কালকে ওর সাথে হিসেব বরাবর করব। টং এর দোকানের একটু সামনে যেতেই একটা বাশ-বাগান পরে। এর পাশে দিয়ে যাওয়ার সময় মনে হলো পা কা...

নাম না দেয়া এক গল্প

১৫ আগস্ট শোক দিবসের কারনে আমার অফিস বন্ধ। প্রতিদিন সকাল ৬ টায় এলার্ম এর আওয়াজে ঘুম ভেংগে যায়। সরকারি বন্ধ থাকা সত্বেও আজকে তার ব্যতিক্রম হয়নি। আসলে ঘুম থেকে সকাল সকাল উঠার কোনো প্ল্যান ছিল না। গত রাতের একটা ভুলের জন্য আমার সকাল সকাল উঠতেই হলো। এলার্মটা মনে করে বন্ধ করি নি তাই। সারাদিন মাঠে ঘাটে ঘুরাঘুরির পরে বাসায় এসে রান্না করে খেতেও ভালো লাগে না। সোজা বিছানায় এসে ঘুমিয়ে পড়া তখন মনে হয় জীবনের সবথেকে বড় ফরজ কাজ। সেই ফাকে এলার্ম বন্ধ করতে ভুলে গেছি । আমার নাম রবিন । একটা এন জি ও তে কাজ করছি। রাঙ্গামাটিতে পোস্টিং হয়েছে। বয়স প্রায় ৩৪ ছুই ছুই । আপন বলতে মা আছেন আর ছোট একটা বোন আছে । বিয়ে হয়েছে ওর অনেক ভালো পরিবারে । আমার এখনো বিয়ে হয় নি আর ভবিষ্যৎ এ বিয়ে করার কোনো পরিকল্পনা ও নেই। চাকরির সুবাদে সেখানে ঘুরে বেড়াই। সত্যি বলতে কি আমার এই একাকি জিবনটাকে আমি খুব উপভোগ করি।  সারাদিন ঘুমে কাটিয়ে বিকালে রাস্তায় বের হয়েছিলাম। তখনি আমার বসের ফোন। ইচ্ছে করেই ফোন রিসিভ করিনি। আজ ছুটির দিনে আবার কিসের কাজ। কাড়া লিকারের চা খেতে চলে গেলাম মঞ্জু ভাই এর দোকানে ।  “ভাই কড়া লিকারের এক কাপ রঙ...

ভয় পেয়েছেন ভাই?

       কোম্পানির কাজের জন্য প্রায় প্রতি সপ্তাহের শেষে রহিম সাহেবকে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে যেতে হয় । এই সপ্তাহেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি । ট্রেন থেকে স্টেশনে নেমে কিছুটা পথ পার হতেই বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো । ব্যাপারটা যেন না বলে আসা মেহমানের মতো লাগলো রহিম সাহেবের । ছাতাটাও বোধ হয় ট্রেনে ফেলে এসেছেন । এ নিয়ে ছাতা হারানোর সংখ্যা  মনে হয় হাফ সেঞ্চুরি পার হবে । কিছুটা সামনে যেতেই একটা বন্ধ চায়ের দোকান চোখে পড়ল । মাথাটাকে কিছুটা হলেও এই বৃষ্টির হাত থেকে বাচাতে পারবেন এই ভেবেই মনটা আনন্দে নেচে উঠলো । টিনের তলায় কিছুক্ষন দাড়াতেই চল্লিশ  বছর বয়সী এক লোক এশে পাশে দাড়ালো ।  “কি হে মশাই এই এলাকায় নতুন নাকি” “জি ভাই কাজের সুবাদে এখানে আসা আরকি” কেন যে এই কথা বলতে গেলাম এই ভেবে জিভ কাটলাম । “ তো কোথায় ঊঠবেন ?’’ “ হাটহাজারী তে একটা হোটেল বুক করেছিলাম এই বৃষ্টির জন্য মনে হচ্ছে যেতে দেরি হয়ে যাবে । আপনি বুঝি এই এলাকার বাসিন্দা?’’ একটু আগ্রহ নিয়েই কথাটা জিজ্ঞেস করলাম । “ আজ্ঞে সেই রকম না , আবার বলতে গেলে বাসিন্দাও । আমি এখানে ৬ মাস হয়েছি এসেছি।” “ ওহ আচ্ছা । তা এলাকাটা খুব শুনশান...

মৃত্যুর তারিখ

 * শুরু আজকে ব্যাংক এ গিয়ে বসতেই এক ভদ্রলোকের দেখা মিলল। বয়স ৫০-৫৫ এর মতো হবে।সে নাকি তার জমানো সব টাকা তুলে নিতে চায়।আজব ব্যাপার এত সকালে এই রকম আগে কখনো দেখি নি । হয় তো ইমারজেন্সী কেস। তাই কৌতূহল বসতই জিজ্ঞেস করে ফেললাম -কোন বিশেষ প্রয়োজন নাকি? এতগুলো টাকা একবারে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন যে -হ্যা মানে আমি আর বেশিদিন বাঁচবো নাতো তাই টাকাগুলো তুলে নিয়ে যাচ্ছি। -আজব ব্যাপার আপনি কিভাবে জানলেন আর বাঁচবেন না। এইসব তো উপর আলার হাতে।ব্যাপারটা কি ? খুলে বলুন তো -আমার জীবন রেখা বলছে আগামী ২৩ তারিখ আমি মারা যাবো তাই এই আয়োজন। -এই ২৩ তারিখ মনে হতে ২ দিন সময় আছে এইবার আমার তাকে বদ্ধ উন্মাদ বলেই মনে হলো।কিন্তু এই উন্মাদের একাউন্টে ১০লাখ টাকা কে জমিয়ে রাখবে। -এত সিউর হচ্ছেন কিভাবে যে ২ দিন পর ই আপনি মারা যাবেন? এইটা সত্যি নাও ত হতে পারে। নাকি ব্যাংক থেকে টাকা উঠানোর অঝুহাত। -অজুহাত হতে যাবে কেন ? আমার টাকা আমি যেকোন সময় ই তুলতে পারব। আই হ্যাভ দা রাইট। -হ্যা আর এই কথা না বাড়িয়ে টাকা গুলো তার হতে বুজিয়ে একাউন্ট ক্লোজ করে দিলাম। -আচ্ছা আপনার কথাগুলো কি সত্যি ? -হ্যা ।কেন বিশ্বাস হয় না? আপনি ...

একা থাকার কিছু অভিজ্ঞতা

         ১ম পর্ব            একা থাকার মধ্যে এক রকম আনন্দ কাজ করে । এই ২ মাস যাবত একা আছি । বাসা থেকে ভার্সিটি একাই যাওয়া আসা করছি । অনেকে বলে একা একা থাকার মধ্যে একঘুয়েমি ভাব কাজ করে আমার ক্ষেত্রে তার ছিটে ফোটাও অনুভব করিনি । আমার ভার্সিটি ওপেন ক্রেডিট সিস্টেম হওয়ায় সেম সেমিস্টার এর ছেলে মেয়ে পাওয়া এক রকম দুষ্কর ব্যাপার। তাই থাকতে হয় একা একাই। একজন বাচাল টাইপ মানুষের ক্ষেত্রে এইরকম পরিবেশে থাকা অনেকটাই চ্যলেঞ্জিং ব্যপার। স্কুল কলেজে থাকতে প্রচুর বন্ধু ছিল । লাইফে কোন সময় বোরিংনেস ফিল হয় নি । ভার্সিটি লাইফে এসে এই বন্ধু বানানোই আমার জন্য কস্টকর হয়ে গিয়েছে। একা একা বাসে ভ্রমন আর বন্ধুর সাথে বাসে ভ্রমন এই ২ জিনিস নিয়ে দুই অভিজ্ঞিতা হয়েছে । আহে কলেজ যাওয়ার সময় বাসে খুব আড্ডা চলতো   আশেপাশে কি হচ্ছে তার দিকে বিন্ধুমাত্র খেয়াল যেত না । একা চালাফেরা করার সময় মস্তিস্ক দেখি সবসময় খোজা খুজী করে কোথেয় কি হচ্ছে । যেমন ধরুন এই মাত্র বাসে এক ভুরি আলা কাকা উঠে গেল। কেন এই ভিড়ের মাঝে তিনি উঠলেন । ফাকা একটা বাসেই তো তিনি উঠতে পারতেন। আবার নিজেই...

গোলকধাঁধা

 .. এক সপ্তাহের লম্বা ছুটি থেকে ফিরে থানায় জয়েন করেই একটা ইন্টারেষ্টিং কেস হাতে পেলো মুস্তাকিম।   কোঁকড়ানো চুল, একটু শর্ট হাইটের মেয়েটি তারই অপেক্ষায় বসে ছিলো। মুখেচোখে বেশ একটা জৌলুশ আছে যা দু'বার ঘুরে দেখতে বাধ্য করে। মুস্তাকিমকে ঢুকতে দেখেই মেয়েটি উঠে দাঁড়ালো। "আপনিই কি ও.সি. মুস্তাকিম? "   "হ্যাঁ, বলুন কী ব্যাপার ?" মুস্তাকিম চেয়ার টেনে বসলো নিজের জায়গায়।   "দেখুন, আমি কাছাকাছি অঞ্চলেই থাকি। আপনি তো ছিলেন না গতকাল বা পরশু। আমি দুই দিন এসে এসে ফিরে গেছি। এখানে একটা ঘটনা ঘটেছে গত সপ্তাহে, শুনেছেন কিনা জানি না। একটা অ্যাক্সিডেন্ট এর ঘটনা -" "সাদিয়া আহমেদের কেস?"   মেয়েটি চেয়ারে বসতে বসতে বললো, "ওহ আপনি জানেন তাহলে ?"   "হ্যাঁ। ওভার দ্য ফোন শুনেছি। আপনি কী বলতে এসেছেন সেটা বলুন।" এই বলে মুস্তাকিম একজন পিওনকে সাদিয়ার ফাইলটা আনতে বললো। তারপর আগন্তুককে জিজ্ঞাসা করলো, "কী নাম আপনার ?"   "আমার নাম... দেখুন - আমি যেটা বলতে এসেছি তার সাথে হয়তো আমার নামের খুব একটা সম্পর্ক নেই। মানে আমার নাম বলতে কোনো অসুবিধা নেই। দর...