সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মৃত্যুর তারিখ

 *

শুরু

আজকে ব্যাংক এ গিয়ে বসতেই এক ভদ্রলোকের দেখা মিলল। বয়স ৫০-৫৫ এর মতো হবে।সে নাকি তার জমানো সব টাকা তুলে নিতে চায়।আজব ব্যাপার এত সকালে এই রকম আগে কখনো দেখি নি । হয় তো ইমারজেন্সী কেস। তাই কৌতূহল বসতই জিজ্ঞেস করে ফেললাম

-কোন বিশেষ প্রয়োজন নাকি? এতগুলো টাকা একবারে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন যে
-হ্যা মানে আমি আর বেশিদিন বাঁচবো নাতো তাই টাকাগুলো তুলে নিয়ে যাচ্ছি।
-আজব ব্যাপার আপনি কিভাবে জানলেন আর বাঁচবেন না। এইসব তো উপর আলার হাতে।ব্যাপারটা কি ? খুলে বলুন তো
-আমার জীবন রেখা বলছে আগামী ২৩ তারিখ আমি মারা যাবো তাই এই আয়োজন।
-এই ২৩ তারিখ মনে হতে ২ দিন সময় আছে
এইবার আমার তাকে বদ্ধ উন্মাদ বলেই মনে হলো।কিন্তু এই উন্মাদের একাউন্টে ১০লাখ টাকা কে জমিয়ে রাখবে।
-এত সিউর হচ্ছেন কিভাবে যে ২ দিন পর ই আপনি মারা যাবেন? এইটা সত্যি নাও ত হতে পারে। নাকি ব্যাংক থেকে টাকা উঠানোর অঝুহাত।
-অজুহাত হতে যাবে কেন ? আমার টাকা আমি যেকোন সময় ই তুলতে পারব। আই হ্যাভ দা রাইট।
-হ্যা
আর এই কথা না বাড়িয়ে টাকা গুলো তার হতে বুজিয়ে একাউন্ট ক্লোজ করে দিলাম।
-আচ্ছা আপনার কথাগুলো কি সত্যি ?
-হ্যা ।কেন বিশ্বাস হয় না? আপনি নোট করে রাখুন আগামী ২৩ তারিখ সকাল ৮ টায় আমি মারা
যাব।আর বেচে থাকলে দেখা হচ্ছে।
-হাহাহা ।আমার মৃত্যুর তারিখটা বলে দেন দেখি।আমিও জানতে খুব আগ্রহী।
-কি বলেন? সময় জেনেগেলে বাকি সময় টুকু টেনশন ফ্রি কাটাতে পারবেন তো??
-এ আমি পারব বলুন ত।
-আপনার জন্ম তারিখ বলুন .
-জী ২৪ ফেব্রুযারি।
-হাত টা দেখান
-হ্যা অবশ্যই।
হাত দেখেই লোকটা কেন যেন কাচু মাচু করতে লাগল। না এইটা হতে পারে না হয়ত আমার ভুল হচ্ছে।
-হয়েছে কিছু বুজতে পারলেন?
-নাহ । মানে আপনার আয়ুরেখা বলছে আপনি আর বেশিদিন বাচবেন না । ভাই মনে কিছু নিয়েন না সব সময় সব কথা সত্য হয় না।
-আরে ভাই কবে মারা যাবো সেইটা বলেন আমিও একটু যেনে রাখি।
-ভাই আপনি সম্ভবত ২৫ জানুয়ারি মারা যাচ্ছেন ।আমার মারা যাওয়ার কিছুদিন পরে।
-বলেন কি এত তাড়াতাড়ি।
আমি জানি ব্যাপারটা সত্য নয় তাও মৃত্যুর কথা শুনে কপালের কোনে একটু ঘাম জমে গেল।
- আচ্ছা ভাই জীবনটা ইঞ্জয় করবেন ।আমি চললাম ।আর হ্যাঁ বেচে থাকলে অবশ্যই দেখা করবো।
-জী ভাই আবার আসবেন।
-হয়ত আর আসা হবে না।
গালে একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললেন। আমার তো মরার নাম শুনেই শরীর খারাপ হচ্ছে । এই লোক তো মৃত্যুর দিন ক্ষন জেনেও চিল আছে । কিভাবে সম্ভব। এখন তো মনে হচ্ছে লোকটা আসলেই পাগল। সাথে আমাকেও টূপি পড়িয়ে দিয়ে গেল। এই সব নিয়ে সিরিয়াসলি ভাবার কিছুই নেই। কত মানুষ কত একাঊন্ট ক্লোজ করার আগে কত রকমের মিথ্যা কথা বলে। এইলোকটা হয়ত আমাকে টুপি পরিয়েই গেলো তাতে অবশ্য আমার কিছু যায় আসে না। এইসব সচারাচর চলতেই থাকে। কিন্তু আসল ঘটনা টা শুরু হয় ২৩ ফেব্রুয়ারির পর থেকে। ওইদিন টিভি খুলতেই দেখি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আকরাম খান মারা সকাল ৮টার দিকে মারা গিয়েছেন । আমি এইলোকের চেহারা দেখে তো পুরাই থ। এই লোকটাই কয়দিন আগে আসে নিজের মৃত্যুর দিন ক্ষন আমাকে জানিয়েছিল এবং তা একশভাগ সত্য হয়েছে। খবরটা শুনতেই আবার সেইদিন এর মত মাথা থেকে ঘাম বের হতে লাগল। এখন কি তাহলে আমার পালা? সারাদিন অফিসের কাজে মোনযোগ দিতে পারিনি এই মরার চিন্তায়। হয়ত আর কয়দিন পর ই এই জীবন শেষ নাই হয়ে যাবে। নিজের মনের অবস্থা ভালো করার জন্য নিজেই নিজকে বুঝাতে লাগলাম
‘ থাকলাম না এই ধুলার পৃথিবীতে ’
সবারই তো একদিন চলে যেতে হবে। আমি তো বিয়েটাও করিনি । বাসায় মা এর সাথে অনেক কথা বললাম ওই রাতে । নামাজ পরে আল্লাহর কাছে মাফ চেয়ে নিলাম । এখন আমার একটাই চাওয়া রইল মরার আগে যেন আজরাইল বেশী কষ্ট না দিয়ে ফেলে। অফিসে অসুস্থ বলে ২৪ ,২৫ তারিখ ছুটি নিলাম। প্ল্যান ছিল ২৪ তারিখ বাড়ী চলে যাবো যেন একা একা পচে না মরা লাগে। এখন কিছু সময় একা থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। মনে মনে অনেক আজগুবি চিন্তা মাথায় আসতে লাগলো । কি হবে যদি বাড়ী না যাই? হয়ত মরে পরে থাকব পরের দিন কাজের বুয়া এসে আবিস্কার করবে একটা মৃত দেহ। হাহাহা। আল্লাহর জিনিস আল্লাহ নিয়ে যাব আফসোস জিবনে ভালো কিছু করতে পারলাম না।
সন্ধ্যা হতেই বাসায় কলেংবেল বেজে উঠল।
-কিরে সালমান তুই?
-কিরে চাকরি পেয়ে কিপটা হয়ে গেছিস । কই আমাদের খাওয়াবি তা না ।
-কি খাওয়াবো বল । আগে বেচে থাকি তারপর।
-কিরে শালা জন্মের দিন মরার কথা বলছিস । আজ না তোর জন্ম দিন । ভুলে গেছিস নাকি আবার কাজের চাপে?
-২৪ ফেব্রুয়ারী ত আরো একমাস পরে।
-আরে শালা ফেব্রুয়ারী না জানুয়ারি। ১০ বছর ধরে একসাথে পালন করছি আর ১০ দিনের চাকরি পেয়েই তুই ভুলে গেছিস? চল আজকে সেলিব্রেট করি
চোখের কোনে আমার পানি জমে গেল । তার মানে আমি মারা যাচ্ছি না। শালা আমি ওই লোক কে ভুল্ভাল তারিখ বলেছিলাম। সালমান কে জড়িয়ে ধরে কাদতে কাদতে বলতে লাগলাম দোস্ত আমি বেচে গেছি রে বেচে গেছি…
No photo description available.

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অনন্ত

* শুরু  কি করব কিছু বুজতে পারছি না। অনেক দিন ধরেই চিন্তা ভাবনা করছি কিছু করব করব কিন্তু কিছু করা হচ্ছে না। এইদিকে এক মাস ধরে বসে আছি নতুন কিছু করব করব ভেবে। এইসব ভাবতে ভাবতে শামিমের ফোন এলো। কিরে যাবি নাকি ? কোথায় যাওয়ার প্লান? চলে আয় টংয়ের দোকানে । তাও ভাই ভালো । টাকা পয়সার এখন যা টানা টানি অবস্থা । বাসায় ও টাকা চাইতে লজ্জা করে । খুবই এক ভয়ানক অবস্থা।" তুই না কি প্রজেক্ট হতে নিবি বলছিলি। ঐটার কি হল। আরে বললেই কি সব হয় নাকি ? এইসব করতে ফান্ডিং এর প্রয়োজন হয় । আচ্ছা আচ্ছা তুই টং এর দোকানে আয় তারপর কথা হবে। আচ্ছা ঠিক আছে আসছি তুই ও আয়। সন্ধ্যার সময় বাহিরে ভালোই ঠান্ডা পরেছে । হুডিটা পরে বেরিয়ে গেলাম । রাস্তায় অনেক বাতাস বইছে । টং এর দোকানে শামীমের কোন কোন খোঁজ পাওয়া গেল না কিন্তু এতক্ষণ এ ওর চলে আসার কথা ছিল। এই দিকে শালা ফোনটা ও রিসিভ করছে না । ও কি আমার সাথে মজা করছে নাকি?  আমি পকেটে চা-বিড়ি খাওয়ার টাকাই নিয়ে এসেছি। ২ টা সিগারেট কিনে বাড়ি ফিরে যাওয়াই উত্তম কালকে ওর সাথে হিসেব বরাবর করব। টং এর দোকানের একটু সামনে যেতেই একটা বাশ-বাগান পরে। এর পাশে দিয়ে যাওয়ার সময় মনে হলো পা কা...

নাম না দেয়া এক গল্প

১৫ আগস্ট শোক দিবসের কারনে আমার অফিস বন্ধ। প্রতিদিন সকাল ৬ টায় এলার্ম এর আওয়াজে ঘুম ভেংগে যায়। সরকারি বন্ধ থাকা সত্বেও আজকে তার ব্যতিক্রম হয়নি। আসলে ঘুম থেকে সকাল সকাল উঠার কোনো প্ল্যান ছিল না। গত রাতের একটা ভুলের জন্য আমার সকাল সকাল উঠতেই হলো। এলার্মটা মনে করে বন্ধ করি নি তাই। সারাদিন মাঠে ঘাটে ঘুরাঘুরির পরে বাসায় এসে রান্না করে খেতেও ভালো লাগে না। সোজা বিছানায় এসে ঘুমিয়ে পড়া তখন মনে হয় জীবনের সবথেকে বড় ফরজ কাজ। সেই ফাকে এলার্ম বন্ধ করতে ভুলে গেছি । আমার নাম রবিন । একটা এন জি ও তে কাজ করছি। রাঙ্গামাটিতে পোস্টিং হয়েছে। বয়স প্রায় ৩৪ ছুই ছুই । আপন বলতে মা আছেন আর ছোট একটা বোন আছে । বিয়ে হয়েছে ওর অনেক ভালো পরিবারে । আমার এখনো বিয়ে হয় নি আর ভবিষ্যৎ এ বিয়ে করার কোনো পরিকল্পনা ও নেই। চাকরির সুবাদে সেখানে ঘুরে বেড়াই। সত্যি বলতে কি আমার এই একাকি জিবনটাকে আমি খুব উপভোগ করি।  সারাদিন ঘুমে কাটিয়ে বিকালে রাস্তায় বের হয়েছিলাম। তখনি আমার বসের ফোন। ইচ্ছে করেই ফোন রিসিভ করিনি। আজ ছুটির দিনে আবার কিসের কাজ। কাড়া লিকারের চা খেতে চলে গেলাম মঞ্জু ভাই এর দোকানে ।  “ভাই কড়া লিকারের এক কাপ রঙ...

ভয় পেয়েছেন ভাই?

       কোম্পানির কাজের জন্য প্রায় প্রতি সপ্তাহের শেষে রহিম সাহেবকে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে যেতে হয় । এই সপ্তাহেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি । ট্রেন থেকে স্টেশনে নেমে কিছুটা পথ পার হতেই বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো । ব্যাপারটা যেন না বলে আসা মেহমানের মতো লাগলো রহিম সাহেবের । ছাতাটাও বোধ হয় ট্রেনে ফেলে এসেছেন । এ নিয়ে ছাতা হারানোর সংখ্যা  মনে হয় হাফ সেঞ্চুরি পার হবে । কিছুটা সামনে যেতেই একটা বন্ধ চায়ের দোকান চোখে পড়ল । মাথাটাকে কিছুটা হলেও এই বৃষ্টির হাত থেকে বাচাতে পারবেন এই ভেবেই মনটা আনন্দে নেচে উঠলো । টিনের তলায় কিছুক্ষন দাড়াতেই চল্লিশ  বছর বয়সী এক লোক এশে পাশে দাড়ালো ।  “কি হে মশাই এই এলাকায় নতুন নাকি” “জি ভাই কাজের সুবাদে এখানে আসা আরকি” কেন যে এই কথা বলতে গেলাম এই ভেবে জিভ কাটলাম । “ তো কোথায় ঊঠবেন ?’’ “ হাটহাজারী তে একটা হোটেল বুক করেছিলাম এই বৃষ্টির জন্য মনে হচ্ছে যেতে দেরি হয়ে যাবে । আপনি বুঝি এই এলাকার বাসিন্দা?’’ একটু আগ্রহ নিয়েই কথাটা জিজ্ঞেস করলাম । “ আজ্ঞে সেই রকম না , আবার বলতে গেলে বাসিন্দাও । আমি এখানে ৬ মাস হয়েছি এসেছি।” “ ওহ আচ্ছা । তা এলাকাটা খুব শুনশান...

একা থাকার কিছু অভিজ্ঞতা

         ১ম পর্ব            একা থাকার মধ্যে এক রকম আনন্দ কাজ করে । এই ২ মাস যাবত একা আছি । বাসা থেকে ভার্সিটি একাই যাওয়া আসা করছি । অনেকে বলে একা একা থাকার মধ্যে একঘুয়েমি ভাব কাজ করে আমার ক্ষেত্রে তার ছিটে ফোটাও অনুভব করিনি । আমার ভার্সিটি ওপেন ক্রেডিট সিস্টেম হওয়ায় সেম সেমিস্টার এর ছেলে মেয়ে পাওয়া এক রকম দুষ্কর ব্যাপার। তাই থাকতে হয় একা একাই। একজন বাচাল টাইপ মানুষের ক্ষেত্রে এইরকম পরিবেশে থাকা অনেকটাই চ্যলেঞ্জিং ব্যপার। স্কুল কলেজে থাকতে প্রচুর বন্ধু ছিল । লাইফে কোন সময় বোরিংনেস ফিল হয় নি । ভার্সিটি লাইফে এসে এই বন্ধু বানানোই আমার জন্য কস্টকর হয়ে গিয়েছে। একা একা বাসে ভ্রমন আর বন্ধুর সাথে বাসে ভ্রমন এই ২ জিনিস নিয়ে দুই অভিজ্ঞিতা হয়েছে । আহে কলেজ যাওয়ার সময় বাসে খুব আড্ডা চলতো   আশেপাশে কি হচ্ছে তার দিকে বিন্ধুমাত্র খেয়াল যেত না । একা চালাফেরা করার সময় মস্তিস্ক দেখি সবসময় খোজা খুজী করে কোথেয় কি হচ্ছে । যেমন ধরুন এই মাত্র বাসে এক ভুরি আলা কাকা উঠে গেল। কেন এই ভিড়ের মাঝে তিনি উঠলেন । ফাকা একটা বাসেই তো তিনি উঠতে পারতেন। আবার নিজেই...

গোলকধাঁধা

 .. এক সপ্তাহের লম্বা ছুটি থেকে ফিরে থানায় জয়েন করেই একটা ইন্টারেষ্টিং কেস হাতে পেলো মুস্তাকিম।   কোঁকড়ানো চুল, একটু শর্ট হাইটের মেয়েটি তারই অপেক্ষায় বসে ছিলো। মুখেচোখে বেশ একটা জৌলুশ আছে যা দু'বার ঘুরে দেখতে বাধ্য করে। মুস্তাকিমকে ঢুকতে দেখেই মেয়েটি উঠে দাঁড়ালো। "আপনিই কি ও.সি. মুস্তাকিম? "   "হ্যাঁ, বলুন কী ব্যাপার ?" মুস্তাকিম চেয়ার টেনে বসলো নিজের জায়গায়।   "দেখুন, আমি কাছাকাছি অঞ্চলেই থাকি। আপনি তো ছিলেন না গতকাল বা পরশু। আমি দুই দিন এসে এসে ফিরে গেছি। এখানে একটা ঘটনা ঘটেছে গত সপ্তাহে, শুনেছেন কিনা জানি না। একটা অ্যাক্সিডেন্ট এর ঘটনা -" "সাদিয়া আহমেদের কেস?"   মেয়েটি চেয়ারে বসতে বসতে বললো, "ওহ আপনি জানেন তাহলে ?"   "হ্যাঁ। ওভার দ্য ফোন শুনেছি। আপনি কী বলতে এসেছেন সেটা বলুন।" এই বলে মুস্তাকিম একজন পিওনকে সাদিয়ার ফাইলটা আনতে বললো। তারপর আগন্তুককে জিজ্ঞাসা করলো, "কী নাম আপনার ?"   "আমার নাম... দেখুন - আমি যেটা বলতে এসেছি তার সাথে হয়তো আমার নামের খুব একটা সম্পর্ক নেই। মানে আমার নাম বলতে কোনো অসুবিধা নেই। দর...